Monday, May 10, 2021

মৎস জীবি ব্যাধে তৃনভোজী হলেও মৎস ধরে বাঘের নিকট বিক্রি করতো:

মৎস জীবি ব্যাধে তৃনভোজী হলেও মৎস ধরে বাঘের নিকট বিক্রি করতো:




আমিষ খাবেন নাকি নিরামিষ খাবেন এটা নিয়ে তর্ক  চলতেই আছে। যারা নিরামিষ খায় তারা আমিষ ভোজীদেরকে পাখন্ডী-রাক্ষস বলে দুষ্টমী করেন আর আমিষ ভোজীরা  নিরামিষ ভোজীদেরকে নপুংসক বলে দুষ্টমী করেন। কিন্তু সনাতন ধর্মের শাস্ত্র দুই পক্ষ কেই সমর্থন করে। তাই বলে শাস্ত্র পরস্পর বিরোধী নয়। শাস্ত্রে সন্ন্যাস-ব্রহ্মচারী-সাত্ত্বিক উপাসনাকারি ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিরামিষের প্রচলন আছে। আবার যারা সাধনা করেন তাদের ক্ষেত্রে আমিষের প্রচলন দেখা যায়। পেশাগত কর্ম অনুযায়ী ও মানুষের অভ্যাসের উপর নির্ভর করে আজকাল। অনেকে মনে করেন মাছ-মাংষ সাত্ত্বিক খাবার নয়, তাদেরকে বলছি যাহা  ঈশ্বরকে অর্পন করা হয় তাহা সাত্ত্বিক খাবারই হয়ে যায়। এটা নিয়ে বেশিরভাগ উগ্রবাদী আমিষ ভোজী ও নিরামিষ ভোজীরা মেনে নিতে না পেরে সর্বসময়  চিল্লাচিল্লি করেন। এটা ঠিক যে আমরা যেমন আহার করবো চেতনাও তেমনই হবে। তাই আমরা যতো বড় পশু আহার করবো চেতনা ততটাই হিংস্র হবে। তবে হিংস্রতার প্রয়োজন নেই বললে ভূল হবে। রক্ত দেখে যার প্রাণ কাদে সে হত্যা করে নিজেকে রক্ষা করবে কি করে? ক্ষত্রিয় সুলভ আচরনের জন্য আমিষের প্রয়োজন রয়েছে। নিরামিষ ভোজনের রেফারেন্সের অভাব নাই সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্রে তাই এটা নতুন করে দেখানোর প্রয়োজন নাই। আসুন আমরা দেখে নেই  আমিষ ভোজীদের সমর্থনে  কিছু শাস্ত্রীয় রেফারেন্স। 


পুরানে মাংস খাওয়া মানে যে গরু খাওয়া নয় এটা সম্পর্কে করপাত্রী মহারাজ স্পস্ট করে বিকৃত অনুবাদ

গুলিকে তিরস্কার করেছেন। আসুন দেখে নেওয়া যাক কোথায় কি বলেছেন উনি:




পুরাণসমূহে কোথাও গোমাংষ ভক্ষণ বা তা দিয়ে সৎকারের কথা বলা হয়নি। যে গো-বংশ কে রক্ষা করার জন্য সম্রাট দিলীপ সিংহের সামনে আমিষ পিন্ড সমতুল্য নিজের  শরীরকে অর্পন করে দিয়েছিলেন, সেই গোবংশের হত্যা তথা তার মাংষ ভক্ষণের চর্চা কারও অত্যন্ত নিন্দনীয়।

................................... স্বামী শ্রী করপাত্রী মহারাজ- বেদার্থ পারিজাত ভাগ ২, পৃষ্ঠা ২০৮১



ছবিটি কুলার্ণবতন্ত্রের



অদ্বৈত প্রভু কতৃক নিত্যানন্দ প্রভুকে উক্তি:



”মৎস্য খাও, মাংস খাও, কেমত সন্ন্যাসী!
বস্ত্র এড়িলাম আমি, এই দিগ্বাসী।।৮৯।।”


……… ৮৯নং শ্লোক, ২৪অধ্যায়, মধ্যখন্ড, চৈতন্য ভাগবত।

                                              ছবিটি চৈতন্যভাগবতের



ইস্কনের প্রভুপাদের ভাগবতের তাৎপর্যে মাংস খাওয়ার বিধানঃ



ভাগবত ৬/৪/১০।




আসুন দেখে নেওয়া যাক পুরান(ভাগবত) কি বলে:


যদ্ ঘাণভক্ষো বিহিত: সুরায়া-

স্তথা পশোরালভনং ন হিংসা।



                                                   ছবিটি গীতা প্রেসের

অনুবাদ: শ্রৌত্রামণি যজ্ঞেও সুরা আগ্রাণের বিধান আছে পানের নয়। যজ্ঞে পশু উৎসর্গ পালনীয় হিংসা নয়।

.................... ১১/৫/১৩ ভাগবত



এখানে স্পস্টকরে বলা হচ্ছে যজ্ঞে পশু বলি হিংসা  নয়। পুরান শিরোমনি ভাগবত যজ্ঞে পশুবলিকে সমর্থন করছে।


মাংস খাওয়া নিয়ে ভাগবত কি বলে দেখা যাক:



                                      ছবিটি শ্রী বলদেব বিদ্যাভূষনের ব্রহ্মসুত্রের গোবিন্দ ভাষ্য




................ ১০/৬৯/৩৫ ভাগবত পুরান




ব্রজগোপী কতৃক মাংস দ্বারা শৈলবলী।


............ ৫৭নং শ্লোক, ১৮৭ অধ্যায়, ব্রহ্মপুরান।




আসুন দেখা যাক স্মৃতি শাস্ত্র কি বলে:


না কৃত্বা প্রানিনাং হিংসাং মাংস মুৎপদাতে কচৎ।
প্রানিবধঃ স্বর্গ্য স্তষ্প্রাদ যাগে বধো ইবধঃ।।

অর্থাৎঃ- প্রানি হিংসা না করিলে মাংস উৎপন্ন হয় না,আবার প্রানি বধ স্বর্গজনক নহেএই জন্যই যজ্ঞের নিমিত্তে যে বধ হয় তাহা অহিংসা।।

................ ৪র্থ  অধ্যায় বশিষ্ঠ্য সংহিতা


যা বেদ বিহিতা হিংসা নিয়তাস্মিংশ্চরাচরে।

অহিংসামেব তান্বিদ্যাদ্বেদাদ্ধর্ম্মোহি নির্ব্বভৌ।।

অনুবাদ: বেদ হতেই ধর্মের উৎপত্তি বা প্রকাশ অতএব বেদানুসারে এই চরাচর জগতে যে হিংসার (জীববধের) বিধান আছে তাহা অহিংসা বলিয়া জানিবে। অর্থাৎ বধ জনিত পাপ হয় না।।

...........  ৫/৪৪, মনুস্মৃতি








                                           ছবিটি বিষ্ণু সংহিতার


যজ্ঞে, পিতৃকাজে, দেবপূজোয়, অতিথিসৎকারে পশু হিংসার বিধানঃ




........ বশিষ্ঠ সংহিতা ৪র্থ অধ্যায়।


আসুন দেখি মহাভারত কি বলে:


মৎস ভোজন

ন গস্তব্যমিত: পুত্র! তবাহারমহং সদা।

দাস্যামি মৎস্যপ্রবরানদ্যতামিতি ভারত!।।৩৯।।

ইত্যুক্তস্তর্পয়ামাস স পিতৃন্ দেবতাস্তথা।

আহারমকরোন্নিত্যং প্রাণান্ বেদাংশ্চ ধারয়ন্।।৪০।।


অনুবাদ: 

পুত্র! এস্থান হইতে তোমার যাইতে হইবেনা; আমি তোমাকে তোমার খাদ্যরুপে উত্তম উত্তম মৎস প্রদান করিব; তুমি তাহাই ভোজন করিতে থাক। ভারতনন্দন! স্বরস্বতী সারস্বতমনিকে এই কথা বলিয়াছিলো।৩৯।।

স্বরস্বতী এইরুপ বলিলে, স্বরস্বতমুনি দেবগণ ও পিতৃগণের তর্পন করিতে লাগিলেন এবং প্রাণ ও বেদ ধারন করিবার উদ্দেশ্যে প্রত্যহ সরস্বতী প্রদত্ত মৎস ভোজন করিতে থাকিলেন।।৪০।।

………… ৩৯, ৪০ নং শ্লোক, ৪৭অধ্যায়, শৈল্য পর্ব, মহাভারত।



আসুন দেখি বাল্মিকি রামায়ন কি বলে:


স তত্রাগ্নিং সমাস্তীর্য শরপত্রৈ: সতোমরৈ:।

ছাগস্য কৃষ্ণবর্ণস্য গলং জগ্রাহ জীবত:।।


অনুবাদ: শরপত্র এবং তোমরসহ অগ্নিস্থাপন করে একটি কৃষ্ণবর্ণবিশিষ্ঠ জীবন্ত ছাগলের গলায় লক্ষ স্থির করল।




সকৃদেব সমিদ্ধস্য বিধূমস্য মহার্চিষ:

অনুবাদ: এক আঘাতেই আহুতি প্রদান করা সেই অগ্নি ধূমশুন্য হয়ে গেলো।


.............. ২৪,২৫ নং শ্লোক, যুদ্ধ কান্ড, বাল্মিকি রামায়ন।




আসুন দেখি গীতা কি বলে:



                                    ছবিটি  অগড়ানন্দের গীতা ভাষ্য ৬/১১ থেকে




                   ছবিটি  ‍শ্রী চৈতন্য-সারস্বত মঠ  নবদ্বীপ থেকে প্রচারিত গীতা ভাষ্য ৬/১১ থেকে


হরিণ স্বীকার করে কি বাঘকে খেতে  দেওয়ার পরে  খাওয়া শেষ হলে চামড়াটা নিয়ে আসবেন? এটা সম্ভব নয়। তাই এই যুক্তি খাটেনা। পশু হত্যার বিধানই প্রমান করে খাওয়ার বিধান।


এখন দেখা যাক বেদের সংহিতা কি বলে:

…………………………………………………মৃগয়ুভ্যশ্চ বো নম:

অনুবাদ: ব্যাধরুপী রুদ্রদেবকে নমস্কার।

…………… শুক্লযজুর্বেদ ১৬/২৭


উগ্র লোহিতেন মিত্রং………… ভবস্য কণ্ঠ্যং রুদ্রস্যান্ত: পার্শ্ব্যং মহাদেবস্য যকৃচ্ছর্বস্য………………।


অনুবাদ: উগ্র রক্তকনিকা দ্বারা মিত্র দেবের…… কণ্ঠের দ্বারা ভবদেবের, পার্শ্বের মাংস দ্বারা রুদ্র দেবের, যকৃতের দ্বারা মহাদেবের প্রীতি সাধন করছি।

…………… শুক্ল যজুর্বেদ ৩৯/৯


রক্তকনিকার প্রকারভেদে শ্বেতরক্তকনিকা ও লোহিত রক্তকনিকা আছে। এখানে লোহিত রক্ত কনিকা অর্থে লাল রক্ত প্রদানের কথা বলা হয়েছে। কন্ঠ যেটাকে ট্রাকিয়া/শ্বাস নালী বলে এই ট্রাকিয়া অর্পনের কথা বলা হয়েছে। পার্শ্বের মাংস মানে থাই-লেগ-আরম এর মাংস অর্পন করতে বলা হয়েছে। যকৃত মানে লিভার বলে এই লিভার প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

এই মন্ত্রে একটি পশুর শরীরের বেশিরভাগ অঙ্গের অর্পনের কথা বলা হয়েছে। এটা দ্বারা প্রমান হয় পশু বলির পরে সেটাকে পিস পিস করে যে স্বরুপকে যে অঙ্গ অর্পন করতে হয় তাকে সেই অঙ্গ অর্পন করে অর্চনা করতে হয়।




ছবিটি বিজন বিহারী গোষ্মামীকৃত  শুক্ল যজুর্বেদ ২৮/৪৬





         শুক্ল যজুর্বেদের ২৮/৪৬ এর শ্রী রাম শর্মা আচার্য্যর ভাষ্য


এত বদন্ত্যবিন্ননা মধু ন্যুংখয়ন্তে অধি পক্ক আমিষি।

বৃক্ষস্য শাখামরুণস্য বপ্সতস্তে সূভর্বা: বৃষভা: প্রেমরাবিষু:।।৩।।



অনুবাদ: নয়া বা লাল রঙ্গিন শাখা খাওয়া শোভন ভোজনকারি বৃষের সমান প্রস্তর শব্দ করে। ঐ রকম মাংস ভক্ষনকারী মাংস রান্নার সময় আনন্দ ধ্বনি করে, ওরাও শব্দ করে।

 ............. ঋগ্বেদ ১০/৯৪/০৩


প্র সম্রাজে বৃহদর্চা গভীরং ব্রহ্ম প্রিয়ং বরুণায় শ্রুতায়।

বি যো জঘান শমিতেব চর্মোর্পস্তিরে পৃথিবীং সূর্যায়।।১।।




অনুবাদ: হে অগ্নি, তুমি ভালভাবে জানো, সর্বত্র প্রসিদ্ধ আর উপদ্রপ কি নিবারক বরুন দেবের জন্য প্রভুত, অনেকবার প্রিয় স্তোত্র  উচ্চারণ করো।  পশুহন্তাকারি যে প্রকারে নিহত পশুর চামড়াকে বিস্তৃত করে, ঐ প্রকারে আস্তরনার্থ অন্তরিক্ষকে বিস্তারিত করে।

............... ঋগ্বেদ ৫/৮৫/১



দেখা যাক ব্রহ্ম সুত্র কি বলে:


মাধ্বগৌড়িয় আচার্য্য শ্রী বলদেব বিদ্যাভূষন কতৃক গোবিন্দভাষ্য:



সূত্রম: অশুদ্ধমিতি চেন্ন শব্দাৎ

সূত্রার্থ- ‘অশুদ্ধম’- ভোগজনক পাপ কর্ম্ম আছে, ;ইতি চেৎ’- এই যদি বল, ‘ন’ তাহা নহে, যেহেতু ‘শব্দাৎ’ অর্থাৎ প্রমাণ আছে, অগ্নিযোমীয় পশু- হিংসা বিধান আছে, উহা পাপজনক নহে।।

............. ব্রহ্মসুত্র ৩/১/২৬





অহম্ নাকি অতম্?

 অহম্ নাকি অতম্?


আসুন দেখি দয়াসমাজিদের শত্রু বিজনবিহারী গোষ্মামী কৃত ৪০./১৭ কি বলে?

এখন দেখা যাক শ্রীরাম শর্মার অনুবাদ কি বলে ৪০/১৭ নিয়ে?


এখন দেখা যাক দয়াসমাজি তুলশিরাম শর্মার অনুবাদ ৪০/১৭ নিয়ে কি বলে?




আসুন এখন দেখা যাক দয়াসমাজিদের পন্ডিতলেকরাম মিশন এর দেবি চন্ডীর ৪০/১৭ কি বলে?



এখন দেখা যাক দয়াসমাজি যার নামে নামকরন হয়েছে তার অনুবাদে কি লেখা ৪০/১৭ নিয়ে




একাদশী বিরোধীদের ভেজা-ভেজা চুলকানির ক্রিম ও খস-খসে চুলকানির ওয়ানমেন্ট দেওয়া হয়েছে:

স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় কি পত্নী একাদশী (উপবাস ব্রত) পালন করিতে পারবে কিনা?


স্বামী বিবেকানন্দ কতৃক একাদশী পালন:



                                                   ছবিটি স্বামীজি কতৃক একাদশি পালন।

আসুন দেখে নেওয়া যাক শিবঅবতার শঙ্করাচার্য উপবাস সম্পর্কে কি বলেছেন?

যেকেউ কাস্ট শাস্ত্রানুসারে উপবাস/ফাস্টিং করতে পারবে । লিংক দেওয়া হলো 

https://www.thehindu.com/books/books-reviews/adi-shankaracharya-hinduisms-greatest-thinker-review-a-lesson-from-the-past/article24065950.ece/amp/?fbclid=IwAR3pfIHWWpowEXBQLHAkuHNqMLxWa8Qxbt1_5UKs2YY3t-1-FYqS3oC850k

উপবাস সম্পর্কে কিছু রেফারেন্স
একাদশি(উপবাস ব্রত) সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য অগ্নি পুরান, শিবপুরান, গড়ুর পুরান, নারদ পুরানে আছে ।

পঞ্চরাত্রং পয়: পীত্বা দধ্যাহারো হ্যুপোষিত:।
একাদশ্যং কার্ত্তিকে তু কৃচ্ছ্রোহয়ং ভাস্করোহর্থদ:।


অনুবাদ: কার্ত্তিক মাসীয় একাদশীতে পঞ্চরাত্র পয়:পান, দধি আহার ও উপবাস করিয়া, বিষ্ণুর পূজা করিবে। ইহার নাম সর্ব্বাভীষ্টজনক কৃচ্ছ্রভাস্কর।
........ ১৫নং শ্লোক, ১৯৮অধ্যায়, অগ্নিপুরান।

 এখন দেখা যাক পুরান ব্যাতিরেখে অন্য শাস্ত্রে কোথায় কি আছে?


                                                                  ছবিটি নারদ পঞ্চরাত্রের



                                            ছবিটি (৪-৭)/৪র্থ অধ্যায়, শাতাতাপ সংহিতা



ছবিটি (১-৪)/৪৯ বিষ্ণু সংহিতার

                                                 ৯০/১২ বনপর্ব, হরিদাস সিদ্ধান্ত বাগীশ

            ছবিটি হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশের মহাভারতের ৮৪/১০৭, অনুশাসন পর্ব


দয়াসমাজিরা হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশের মহাভারতের চেয়ে গীতা প্রেস ও কালিপ্রসন্ন সিংহের অনুবাদ বেশি  মানেন।


                                 ছবিটি গীতা প্রেসের মহাভারত ১০৯ অধ্যায়, অনুশাসন পর্ব


           ছবি দুটি কালি প্রসন্ন সিংহের মহাভারত ১০৯অধ্যায়, অনুশাসন পর্ব

                                        ছবিটি কাশিদাসের মহাভারতের

দ্রব্যযজ্ঞাস্তপোযজ্ঞা যোগযজ্ঞাস্তথাপরে।
স্বাধ্যায়জ্ঞানযজ্ঞাশ্চ যতয়ঃ সংশিতব্রতাঃ।।





অনুবাদ:
 কেহ কেহ দ্রব্যদানরূপ যজ্ঞ করেন, কেহ কেহ তপোরূপ যজ্ঞ করেন, কেহ কেহ যোগরূপ যজ্ঞ করেন, কোন কোন দৃঢ়ব্রত যতিগণ বেদাভ্যাসরূপ যজ্ঞ করেন, কেহ কেহ বেদার্থপরিজ্ঞানরূপ যজ্ঞ সম্পাদন করেন।
.................... ৪/২৮, গীতা



                                                    ছবিটি (২১-২৫), ৪র্থ স্বর্গ, বাল্মীকি রামায়ন



                                                             ছবিটি ২/২২০ মনু সংহিতা 





ছবিটি শতপথ ব্রাক্ষ্মণ: ২য় কান্ড ১ম অধ্যায় ৪র্থ ব্রাক্ষ্মণ ০১

এখন দেখা যাক বেদ মন্ত্রের দ্রষ্টা কয়েকজন ঋষি পত্নির নাম:

     ১)ঋগবেদ ১ম মন্ডল ১৭৯ সুক্তের দেবতা রতি, ঋষি অগস্ত্যের পত্নী লেপামুদ্রা।
      ২)ঋগবেদ ১০ম মন্ডলের ১৪৫নং সুক্তের দেবতা সপত্নীবাধন, ঋষি ইন্দ্রাণী

স্ত্রী-পুরুষে একত্রে যজ্ঞ করতেন:
ঋগবেদ্ ১/১৩১/৩, ১/১৭৩/২, ৫/৪৩/১৫, ৮/৩১/৫  রেফারেন্স অনুযায়ী পাওয়া যাবে।

বৃহদারন্যক শ্রুতিতে পতি পত্নীর একই সাথে পুত্র ও কন্যা প্রাপ্তির মন্ত্র বিদ্যমান



                                 ছবিটি ৬ষ্ঠ অধ্যায় ৪র্থ ব্রাক্ষ্মণ

এখন দেখা যাক বৃহদারন্যক শ্রুতিতে উপবাস নিয়ে কি বলে?

তমেতং বেদানুবচনেন ব্রাক্ষ্মণা বিবিদিষন্তি, যজ্ঞেন দানেন, তপসানশনেন ।


                              ছবিটি ৪র্থ অধ্যায় ৪র্থ ব্রাক্ষ্মণ মন্ত্র নং ২২

অনুবাদ: বেদবচন, যজ্ঞ, দান, তপস্যা, ও অনশনব্রত দ্বারা ব্রাক্ষ্মণগণ তাহাকে জানিতে চাহেন।



                          ছবিটি মাধ্বাচার্য্যকৃত বৃহদারন্যক উপনিষধের ৪/৪/২২ ভাষ্য

এখন দেখা যাক মহানারয়ন উপনিষধে কি বলা হয়েছে?

……তপ ইতি তপো নানশনাৎপরং যদ্ধি পরং তপস্তদ্দুর্ধর্ষং তদ্দুরাধর্ষং তস্মাত্তপসি রমন্তে।……...


অনুবাদ: তপস্যা-অনশন অপেক্ষা উৎকৃষ্ট  তপস্যা নাই। উৎকৃষ্ট তপস্যা (কৃচ্ছ্রচান্দ্রয়ণাদি) সুসাধ্য নয়। (সর্বপ্রাণীর পক্ষে) সুসাধ্য নয় বলে অসহনীয় তপস্যায় (মুমুক্ষগণ) আনন্দ পান।

………… ২/২১ মহানারয়ন উপনিষধ।


………শ্রুতং তপ: শান্তং তপো দানোং তপো………………………………………………



অনুবাদ: (বেদার্থ নির্ণয়পূর্বক) শাস্ত্র শ্রবণ তপ:। ইন্দ্রিয়দমন তপ:(শম ও দম রুপ সাধন সম্পৎ যাঁর আছে তিনি শান্ত), দান তপস্যা……………………………………………………………………

দম- বহিরিন্দ্রিয় সংযম। উপবাসাদি তপস্যা। একাদশী, পূর্ণিমা ও অমাবস্যা প্রভৃতি তিথিতে উপবাস বিহিত। শম- অন্তরিন্দ্রিয় সংযম। শত্রুর প্রতিও ক্রোধরাহিত্যরুপ তপস্যা।

………… ১/৮ মহানারয়ন উপনিষধ।



তেনাহরণ্যান্যদনাশ্বানুপবসেৎ পিতৃদেবত্যঃ স্যাৎ। ................ বজ্রো বৈ যজ্ঞঃ ক্ষুৎ খলু বৈ মনুষ্যস্য ভ্রাতৃব্যো যদনাশ্বানুপবসতি বজ্রেণৈব সাক্ষাৎক্ষুধং ভ্রাতৃব্যং হন্তি।

অনুবাদঃ যদি উপবাস করে শ্রাদ্ধাদি করা হয়, তবে পিতৃগণ তুষ্ট হন। .......... যজ্ঞ ব্জ্রসদৃশ, ক্ষুধা মানুষের শত্রু, না খেয়ে উপবাস করলে যজ্ঞরুপ বজ্র তার ক্ষুদারুপ শত্রুকে বিনাশ করে।
...... কৃষ্ণ যজুর্বেদ ১/৬/৭

প্রমান সাপেক্ষে দেখা যাচ্ছে যে উপবাস/ অনশন/ ফাস্টিং/একাদশী/দ্বাদশী ইত্যাদি স্ত্রীদের জন্যও প্রযোজ্য। এখন প্রশ্ন হলো বেদ মন্ত্রের দ্রষ্টা ঋষি ও ঋষি পত্নী যদি একই মন্ত্র না দেখে থাকেন তাহলে তারা কি করে একই সাথে অনশন ব্রতও পালন করেছিলেন? অবশ্যই ঋষি পত্নী আলাদাভাবে অনশন/উপবাস/একাদশী/দ্বাদশী ব্রত পালন করেছিলেন।



Saturday, May 8, 2021

বাল্মীকি রামায়নে শিব লিঙ্গ:

 বাল্মীকি রামায়নে শিব লিঙ্গ:


  





................... ৩১/(৪১-৪৩), উত্তরকান্ড, বাল্মীকি রামায়ন।







বিষ্ণু পুরানে গোবায় অর্থ গরুর দুধের পায়েস:

 বিষ্ণু পুরানে গোবায় অর্থ গরুর দুধের পায়েস:


   





















Saturday, May 1, 2021

বিষ্ণুর গো প্রীতি

 বিষ্ণুর গো প্রীতি:


    


তা বাং বাস্তুন্যশ্মাসি গমধ্যৈ যত্র গাবো ভূরিশূঙ্গা অয়াসঃ।
অত্রাহ তদুরুগায়সত্য বৃষ্ণঃ পরমং পদমব ভাতি ভূরি।।

অনুবাদঃ যেসব স্থানে অনন্ত শৃঙ্গবিশিষ্ট ও শিঘ্রগামী গো সমুহ, সেসব স্থানে গমন করে বিষ্ণুর প্রার্থনা করি। ঐসব স্থান বহুলোকের স্তবনীয় ও অভীষ্টবর্ধক বিষ্ণুর পরমপদ যথেষ্ট স্ফূর্তি প্রাপ্ত হয়।
.......... ঋগ্বেদ ১/১৫৪/৬