তৈস্তৈ: পদৈস্তৎপদবীমন্বিচ্ছন্ত্যোহগ্রতোহবলা: ।
বধ্বা: পদৈ: সুপ্রক্তানি বিলোক্যার্তা: সমব্রুবন্।। ২৬।।
অনুবাদ: সেই পদচিহ্নগুলি অনুসরণ করে ব্রজরমনীগণ শ্রীকৃষ্ণ
যে পথে গেছিলেন, সেই পথ ধরে এগিয়ে চললেন। সামান্য অগ্রসর হতেই তারা শ্রীকৃষ্ণের পদচিহ্ন
দেখতে পেলেন- এবং তা দেখে অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়লেন। তখন দু:খিত চিত্তে পরস্পরকে বলতে
লাগলেন।।
কস্যা: পদানি চৈতানি যাতায়া নন্দসূনুনা ।
অংসন্যস্তপ্রকোষ্ঠায়া: করেণো: করিণা যথা।। ২৭।।
অনুবাদ: ‘হস্তিনী যেমন নিজের প্রণয়ী গজরাজের সহিত গমন
করে, তেমন ভাবেই নন্দনন্দনের কাধে নিজের হাত রেখে তার পাশে পাশে হেটে গেছেন, কে এই
মহাভাগবতী, যার পদচিহ্ন আমরা সম্মুখে দেখতে পাচ্ছি?
এই দুটি শ্লোক থেকে সহজেই বোঝা যায় যে কৃষ্ণের সহিত খুবই অন্তরঙ্গভাবে কাঁধে হাত দিয়ে একজন হেঁটে চলেছেন।
অনয়াহহরাধি তো নূণং ভগবান্ হরিরীশ্বর: ।
যন্নো বিহায় গোবিন্দ: প্রীতো যামনয়দ্ রহ: ।।২৮।।
অনুবাদ: অবশ্যই ইনি সর্বশক্তিমান ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সর্বশ্রেষ্ঠ রাধিকা – যেজন্য আমাদের ছেড়ে শ্রীগোবিন্দ এরই প্রতি প্রীতিবশে একা একেঁ নিয়ে নির্জনে
চলে এসেছেন।
এই শ্লোকটি দ্বারা বোঝা যায় যে যিনি কৃষ্ণের সহিত নির্জনে চলেছেন তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও রাধিকা।
ধন্যা অহো অমী আল্যো গোবিন্দাঙ্ঘ্র্যব্জরেণব:।
যান্ ব্রহ্মেশো রমা দেবী দধুর্মূর্ধ্ন্যঘনুত্তয়ে ।। ২৯
অনুবাদ: সখীরা! যে ধুলিকণাসমূহ শ্রীগোবিন্দের চরণপদ্মের
স্পর্শ্ লাভ করে, তারাই ধন্য, তাদের ভাগ্যের তুরনা নেই। স্বয়ং ব্রহ্মা, মহাদেব এবং
লহ্মীদেবী পর্যন্ত নিজেদের অশুভনাশের জন্য সেই ধুলি নিজেদের মস্তকে ধারণ করেন।
এই শ্লোকে বলছে সেই ধুলি ব্রহ্মা, মহাদেব(শিব), লহ্মীও অশুভনাশের জন্য মস্তকে ধারণ করে। যার পায়ের ধুলিই ছাড়া চলেনা তার মাহাত্ম্য অবশ্যই ব্রহ্মা-মহাদেব-লহ্মী থেকে বেশি এটাই প্রমাণিত হয়।
তস্যা অমূণি ন: ক্ষোভং কুর্বস্ত্যচ্চৈ: পদানি যৎ ।
যৈকাপহৃত্য গোপীনাং রহো ভুঙক্তেহচ্যুতাধরম্ ।।৩০
অনুবাদ: ‘কিন্তু যাই বলিস তোরা আমাদের সকল গোপীর যাতে
অধিকার, সেই শ্রীকৃষ্ণের অধরসুধা যিনি চুরি করে নিয়ে নির্জনে বসে একাকী ভোগ করছে।
ন লক্ষ্যন্তে পদান্যত্র তস্যা নূনং তৃণাম্কুরৈ: ।
খিদ্যৎসুজাতাঙ্ ঘ্রিতলামুন্নিন্যে প্রেয়সীং প্রিয়:।।৩১।।
অনুবাদ: এইখানে সেই গোপীর পদচিহ্ন দেখা যাচ্ছেনা। মনে
হচ্ছে, প্রেয়সীর সুকুমার পদতল তৃণাম্কুরের তীক্ষ্ণ অগ্রভাগের স্পর্শে ব্যাথা পাওয়ার
প্রিয় শ্যামসুন্দর তাঁকে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
ইমান্যধিকমগ্নানি পদানি বহতো বধূম্ ।
গোপ্য পশ্রত কৃষ্ণস্য ভারাক্রান্তস্য কামিন: ।৩২।।
অনুবাদ: অনুবাদ: সখীরা, এইখানে দেখ, এই যে শ্রীকৃষ্ণের পদচিহ্নগুলি মাটিতে বেশি গভীর হয়ে বসেছে বোঝাই যাচ্ছে যে, তিনি কোনো ভারী বস্তু বহন করছিলেন। প্রেমিক পরমেশ্বর কৃষ্ণ যে বধূকে নিজ স্কন্ধে বহন করার ফলেই ভারাক্রান্ত হয়েছিলেন, তা অনুমান করা দুস্কর নয়।
কেশপ্রসাধনং ত্বত্র কামিনা কৃতম্ ।
তানি ছূড়য়তা কান্তামুপবিষ্টমিহ ধ্রুবম্ ।। ৩৪।।
অনুবাদ: সুদক্ষিণ নায়কের মতোই তিনি এখানে সেই কামিনির
কেশ প্রসাধন করেছিলেন। তিনি হাতে চয়ন করা ফুল প্রিয়তমার কেশে চূড়াকারে গেঁথে দেওয়ার
জন্য এখানে উপবেশনও করেছিলেন।
এখন অপপ্রচারকারিরা শুরু করবে অশ্লিল বাক্য যে, কৃষ্ণ কেনো স্কন্দে তুরে রাধিকাকে নিয়ে বনে গেলেন আর গিয়েই বা কি করলেন?
সাংখ্য দর্শন ৬০ অনুসারে প্রকৃতি পুরুষ স্বামী-স্ত্রী। স্বামী-স্ত্রী একত্রে থাকলে অশ্লীলতা থাকেনা।
ভাগবত না পড়িয়া ভাগবতে রাধা নাই বলিয়া কিছু অকাল কুষ্মান্ড লাফালাফিতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন ১০/৩০/২৮ - ১০/৩০/৩৫ পর্যন্ত পড়ে দেখতে পারেন যেকোনো ভাগবত থেকে। অামি নিচে দুইটি দেবনগরী, দুটি বাংলা ও একটি ইংরেজি থেকে দিলাম। ভাগবতে ভাগবতীই সব। রাধিকা স্বীকার না করতে চাইলে ভাগবত বর্জন করুন।
No comments:
Post a Comment